সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ১০:০৮ পূর্বাহ্ন
ভয়েস প্রতিবেদক, টেকনাফ:
মিয়ানমারের বিভিন্ন কারাগারে কারাভোগ শেষে ৪১ জন বাংলাদশী নাগরিককে ফেরত দিয়েছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। বুধবার (২৩ মার্চ) দুপুরে মিয়ানমারের মংডু টাউনশিপে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি এবং মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিপির মধ্যে পতাকা বৈঠক শেষে ৪১ জন বাংলাদেশী নাগরিককে বিজিবি প্রতিনিধি দলের কাছে হস্তান্তর করে বিজিপি। বিকেলে বিজিবি প্রতিনিধি দল এসব বাংলাদেশী নাগরিককে নাফ নদী পার হয়ে টেকনাফে নিয়ে আসে।
নাফ নদীর পাড়ে টেকনাফ জেটি ঘাটে পৌঁছে বিজিবি টেকনাফ ২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে: কর্নেল শেখ খালিদ মোহাম্মদ ইফতেখার ব্রিফিং এ জানান, গত বছর মে মাস থেকে ৪১ জন বাংলাদেশী নাগরিক মিয়ানমারের রাখাইন ষ্টেটের বিভিন্ন কারাগারে সাজা ভোগ করার পর মিয়ানমারে অত্যন্ত অমানবিক জীবনযাপন করছিল তারা। বিষয়টি জানার পর সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিজিবি এবং মিয়ানমারের সিতওয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কনস্যুলেট দীর্ঘদিন ধরে তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মিয়ানমারের মংডুতে বিজিবি এবং বিজিপির মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে ৪১ জন বাংলাদেশী নাগরিককে বিজিবি প্রতিনিধি দলের কাছে হস্তান্তর করে।
বিজিবি অধিনায়ক ব্রিফিং এ জানান, বাংলাদেশি এসব নাগরিকরা বিভিন্ন সময়ে সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে মিয়ানমারে প্রবেশের অভিযোগে বিজিপির হাতে গ্রেফতার হয়ে মিয়ানমারের কারাগারে বন্দি ছিল। পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। দুই দেশের প্রতিনিধিদল পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, প্রগতিশীল উন্নতি এবং দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।
ব্রিফিং এ বিজিবি অধিনায়ক জানান, পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা ৪১ জন বাংলাদেশীকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সহায়তায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরে তাদের স্ব স্ব পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হবে। ফিরিয়ে আনা বাংলাদেশী নাগরিকদের মধ্যে ২৩ জন টেকনাফ উপজেলার, ২ জন উখিয়া উপজেলার, ৭ জন রাংগামাটি জেলার, ৭ জন বান্দরবান জেলার, ২ জন খাগড়াছড়ি জেলার এবং ১ জন মৌলভীবাজার জেলার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে একজন মহিলাও রয়েছে; যিনি মিয়ানমারের রাখাইন ষ্টেটে আতœীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে মিয়ানমার পুলিশের হাতে আটক হয়ে কারাভোগ করেন। বাকিদের অধিকাংশই জেলে। তারা নাফ নদীতে মাছ শিকার করতে গিয়ে মিয়ানমার পুলিশের হাতে আটক হন। ফেরত আসা বাংলাদেশীদের মধ্যে কেউ কেউ মিয়ানমারের কারাগারে সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাভোগ করেন।
ভয়েস/আআ